RSS Feed

Category Archives: Quarbani

‘কুরবানী সুন্নাত/’কুরবানী সুন্নাত?

ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, ‘কুরবানী সুন্নাত এবং স্বীকৃত প্রথা।’ (বুখারী ৭/৯৯)
আর হানাফী আলেম বলেন , ‘কুরবানী ওয়াজিব।’

আদৌ কি এরা হাদীছ গ্রন্থ খুলে পড়ে ?

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল https://islamqa.info/bn/36432

প্রশ্ন কোরবানী বলতে কী বুঝায় কোরবানী করা কি ওয়াজিব না সুন্নত
islamqa.info

Mohammad Shhabuddin Jahirye
Mohammad Shhabuddin Jahirye কি বলবো?তর্ক করতে করতে হাপিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি যদিও তর্ক করার কোন ইচ্ছা নেই।মানুষ এতো মতবাদপ্রিয় কেন? কুরবানী সর্ম্পকে হানাফী আলেমগণের অভিমত,ইমাম আবু হানিফা,যুফার ,হাসান,ও ইমাম ইউসুফ রহঃ এর রেওয়ায়েত অনুযায়ী,কুরবানী আমলের দিক দিয়ে ওয়াজিব আর বিশ্বাসগতভাবে নয়।তবে,ইমাম ইউসুফের অন্য রেওয়ায়েত মোতাবেক কুরবানী সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।এটি ইমাম শাফেয়ী ও আহমদেরও রহঃ অভিমত।(الحاشية علي مختصر القدوري مكتبة الفتح ص.228)

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল একজন ছাহাবী (রাঃ) কি বলছেন দেখুন ?

Mohammad Shhabuddin Jahirye
Mohammad Shhabuddin Jahirye কথা বাড়ানোর ইচ্ছে নেই।আল্লাহু আলামু বিছ ছাওয়াব।

Sogood Islam Syeds
Write a reply…
Mohammad Shhabuddin Jahirye
Mohammad Shhabuddin Jahirye তাছাড়া সুন্নাত,ওয়াজিব,ফরজ এগুলোতে ফকিহগণের পরিভাষাবিশেষ।

Mohammad Shhabuddin Jahirye
Mohammad Shhabuddin Jahirye তাছাড়া ইবনে তাইমিয়্যাও রহঃ মনে হয় আদৌ হাদীসগ্রন্থ খুলে দেখেন নি।

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, ‘কুরবানী সুন্নাত এবং স্বীকৃত প্রথা।’ (বুখারী ৭/৯৯)

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল শাইখ মুহাম্মদ বিন উছাইমীন বলেন: “সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানী করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অতএব, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষ থেকে ও পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিবে।[ফাতাওয়াস শাইখ ইবনে উছাইমীন (২/৬৬১)]

Mohsin Kamal
Mohsin Kamal আহ!এরাও হাদীস পড়েন নি। ইমাম আবূ হানীফাহ, ইমাম আহ্‌মাদ ইবনু হাম্বাল, এক বর্ণনামতে ইমাম মালিক, ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ (p) প্রমুখ ‘উলামায়ে কিরামের মতে প্রাপ্তবয়স্ক, সামর্থবান (ইমাম আবূ হানীফাহ o– এর মতে এক্ষেত্রে সামর্থবান বলতে যার নিকট নিসাব পরিমাণ অর্থ-সম্পদ রয়েছে তাকে বুঝায়), মুক্বীম (স্বীয় আবাসস্থলে অবস্থানকারী) মুছলমানের উপর ক্বোরবানী করা ওয়াজিব।

Mohammad Shhabuddin Jahirye
Mohammad Shhabuddin Jahirye শায়খ উছায়মীনের রহঃ অভিমত এককভাবে প্রধান্য পাচ্ছে কেন?

Engr Mohsin Iqbal
Engr Mohsin Iqbal ইমাম আহ্‌মাদ ইবনু হাম্বাল, এক বর্ণনামতে ইমাম মালিক, ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ kothai bilechen?

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল ekta spasto mawkuf rewat thakte enara tabeider kawl nie lafalafi krchen. ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, ‘কুরবানী সুন্নাত এবং স্বীকৃত প্রথা।’ (বুখারী ৭/৯৯)

Mohsin Kamal
Mohsin Kamal ভাই সুন্নত তো কখনও কখনও ফরজও হয়।

Mohsin Kamal
Mohsin Kamal কিন্তু আপনি পোস্টে লিখেছেন হানাফীরা হাদীস পড়েনি।আপনার মতে কি তাইলে এরাও পড়েন নি?

আবু আব্দুল্লাহ
আবু আব্দুল্লাহ হা হা হা, ” সুন্নাত বা স্বীকৃত প্রথা ” এই কথাটা দিয়ে নাকি ” ক্বুরবানি সুন্নাতই প্রমানিত হয়, ওয়াজিব নয় ” হাস্যকর, আমিও ক্বুরবানিকে সুন্নাত হওয়াটাই তারজি দিই কিন্তু ওই আছার দ্বারা নয়। দাড়ি রাখাও তাহলে ওয়াজিব হবে না দেখছি।;

Sogood Islam Syeds
Write a reply…
Mohsin Kamal
Mohsin Kamal ফকীহগন কোনো কোনো সুন্নতকে ওয়াজিব,কোনোটিকে ফরজ,কোনোটিকে মুস্তাহাব বলেছেন।আমাদের কতকের দাওয়াত হানাফী/আহলে হাদীসদের হামলা করো।

S.m. Shamim Rahman
S.m. Shamim Rahman আরে বাহ আপনি তো দেখতেছি হাদিস এর জাহাজ খুলে বসে আছেন।

Ibn Ubaidullah
Ibn Ubaidullah আল্লাহর গোলাম আনিসুল ভাই, সহীহ ফিক্বহুস সুন্নাহ তে কুরবানী ওয়াযিব না হবার অনেকগুলি দলীল আনা হয়েছে – সেগুলির উদ্ধৃতি দিয়ে নিন্দুকদের জবাব দিয়ে দিন। (তাহক্বীক্বী মানে সেগুলোর অধিকাংশই সহীহ/হাসান)।

আল্লাহর গোলাম আনিসুল
আল্লাহর গোলাম আনিসুল আমার কাছে নেই কিতাবটি

Mohsin Kamal
Mohsin Kamal আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমার কাছে আছে কিতাবটি।কিন্তু কেউ তো নিন্দা করেনি।তবে ইবনে তাইমিয়াও ওয়াজিব বলেছেন।তিনি তো মারা গেছেন তাকে জবাব দিবেন কিভাবে?

Ibn Ubaidullah
Ibn Ubaidullah Mohsin Kamal নারে ভাই, আমি আসলে সমালোচক বলতে যেয়ে নিন্দুক বলে ফেলেছি 😦
আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, আনিসুল ভাই উক্ত কিতাবটি থেকে আরও দলীলাদি যোগ করে দিলে তখন যারা উনার পোস্ট নিয়ে আপত্তি দিচ্ছেন তাঁরা বুঝবেন যে উনি বরং অগ্রাধিকারযোগ্য শক্তিশালী মতটি-ই তুলে ধরেছেন।
সামান্য একটি শব্দের ভুলে আমি যা বুঝাতে চেয়েছিলাম তা অনেকটা বদলে গেছিল।

Sogood Islam Syeds
Write a reply…
Rahul Hossain Ruhul Amin
Advertisements

ভাগে গরু কোরবানী দেয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের উলামা পরিষদের স্থায়ী কমিটির ফতোয়াঃ+comments

M Towfiqur Rahman

ভাগে গরু কোরবানী।
গুরুত্বপূর্ণ জবাব।


ভাগে গরু কোরবানী দেয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের উলামা পরিষদের স্থায়ী কমিটির ফতোয়াঃ

কোরবানীতে একটি গরু বা একটি উট সাতজনের পক্ষ হতে যথেষ্ট।

এই সাতজন লোক একই পরিবারভুক্ত হোক অথবা আলাদা আলাদা সাত পরিবারের লোক হোক। চাই এই সদস্যদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক।

কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের একাধিক লোক মিলে উট বা গরু কোরবানী দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তাদের মাঝে আত্মীয়াতার সম্পর্ক থাকতে হবে কি না এমন কোনো কথা বলেন নি। লাজনায়ে দায়িমার কথা এখানেই শেষ।

ইসলাম ওয়েবের প্রশ্নোত্তর বিভাগে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, সাতজনের কম লোক মিলে গরু কোরবানী দিতে পারবে কি না?

জবাবে বলা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। একটি গরুতে সাতজনের অংশগ্রহণ করা জায়েয আছে। দেখুন প্রশ্ন নং- ৪৫৭৫৭।

সাতজনের অংশগ্রহণ জায়েয হলে সাতজনের কমের অংশগ্রহণ আরো উত্তমভাবেই জায়েয হবে।

তিরমিযীর ভাষ্যকার আল্লামা আব্দুর রাহমান মোবারকফুরী রাহিসাহুল্লাহ বলেন, আমি বলছি, হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় সাহাবীগণ উট ও গরুতে অংশগ্রহণ করতেন।

এমনিভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তারা একটি ছাগলেও অংশগ্রহণ করতেন। তবে ছাগলে অংশগ্রহণের বিষয়টি একই পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে সীমিত।

আর গরুতে সাত পরিবারের সাতজনের অংশগ্রহণ জায়েয।
(দেখুন তুহফাতুল আহওয়াযী, (৪/১৫৯)

[শাহনাজ আমিনের পোষ্ট থেকে]

comments bf;-

আবুল হাসেম কোন হাদীসের রেফারেন্স নেইযে???

Saif Ullah
Saif Ullah রেফারেন্স কোথায় ? ছাগলে সাতজন ?

Bilal Hussain
Bilal Hussain ছাগল কুরবািনর +৭রেফারেনস দেন, নইলে আপনি মিতথা বলছেন

Ruhul Amin Sr.
Ruhul Amin Sr. M Towfiqur Rahman sommanito boro vai aro ektu todonto kore share korun aro bistarito dolil soho jante ei vedio ti dekhun https://www.youtube.com/watch?v=_DN7ODgmgZ4

Ruhul Amin Sr.
Shah Fakhrul Islam Alok
Shah Fakhrul Islam Alok কুরবানীর জন্যে নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হ’তে একটি পশুই যথেষ্ট। এ বক্তব্যের সপক্ষে একটি চমৎকার হাদীস রয়েছে-

হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি শিংওয়ালা সুন্দর সাদা-কালো দুম্বা আনতে বললেন…. অতঃপর নিম্নোক্ত দো‘আ পড়লেন,

بِسْمِ اللهِ أَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِن مُّحَمَّدٍ وَّ آلِ مُحَمَّدٍ وَّ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ رواه مسلم-

‘আল্লাহ্-র নামে (কুরবানী করছি), হে আল্লাহ! তুমি এটি কবুল কর মুহাম্মাদের পক্ষ হ’তে, তার পরিবারের পক্ষ হ’তে ও তার উম্মতের পক্ষ হ’তে।‘
এরপর উক্ত দুম্বা দ্বারা কুরবানী করলেন।

[তথ্যসূত্র : মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫৪।]

Shah Fakhrul Islam Alok
Shah Fakhrul Islam Alok সাহাবীদের আমল ছিল এমন যে- সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ) ও ওমর ফারূক্ব (রাঃ) অনেক সময় কুরবানী করতেন না। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস, বেলাল, আবু মাসঊদ আনছারী প্রমুখ ছাহাবী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মূলত কুরবানী সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। এটি ওয়াজিব নয় যে, যেকোন মূল্যে প্রত্যেককে কুরবানী করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্যেই সাহাবীরা অনেকসময় কুরবানী করতেন না।

[তথ্যসূত্র : বায়হাক্বী (হায়দারাবাদ, ভারতঃ ১৩৫৬ হিঃ; ঐ, বৈরুতঃ দারুল মা‘রিফাহ, তারিখ বিহীন) ৯/২৬৪-২৬৬; মির‘আত ৫/৭২-৭৩; তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/২৩৪; তাফসীরে কুরতুবী ১৫/১০৮-১০৯ পৃঃ।]

Shah Fakhrul Islam Alok
Shah Fakhrul Islam Alok ভুলে যাওয়া একটি আমল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস –

উম্মে সালামা (রা:) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “যখন তোমরা জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করবে, সে যেন কুরবানীর পশু জবাই করার পূর্বে তার মাথার চুল বা হাত-পায়ের নখকাটা থেকে বিরত থাকে।” (মুসলিম-আহমদ) কোন কোন আলেম একে হারামও বলেছেন। যদি কেউ নখ বা চূল কেটেই ফেলে, তাহলে তাকে তাওবাহ্ করতে হবে; তবে এর জন্যে কোন কাফফারার প্রয়োজন নেই।

এই বিধান শুধুমাত্র পরিবারের যে কুরবানী করবে তার জন্য; তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য এ বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত, এ সুন্নত জীবিত করা, যা বর্তমান যুগে প্রায় পরিত্যক্ত এবং ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, এমনকি নেককার লোকদের থেকেও। একটি সুন্নত জীবিত করার প্রচেষ্টার অনেক বড় পুরস্কার রয়েছে।
তাহলে এ পুরস্কার পাবার সুযোগ আমরা কেন হাতছাড়া করবো?

Mominul Islam Sajib
Jakaria Srabon
Jakaria Srabon cagol je sat poribar er moddhe simaboddho er ekta dolil den please

Shah Fakhrul Islam Alok
Shah Fakhrul Islam Alok কুরবানীর জন্যে নিজের ও নিজ পরিবারের পক্ষ হ’তে একটি পশুই যথেষ্ট। এ বক্তব্যের সপক্ষে একটি চমৎকার হাদীস রয়েছে-

হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি শিংওয়ালা সুন্দর সাদা-কালো দুম্বা আনতে বললেন…. অতঃপর নিম্নোক্ত দো‘আ পড়লেন,

بِسْمِ اللهِ أَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِن مُّحَمَّدٍ وَّ آلِ مُحَمَّدٍ وَّ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ رواه مسلم-

‘আল্লাহ্-র নামে (কুরবানী করছি), হে আল্লাহ! তুমি এটি কবুল কর মুহাম্মাদের পক্ষ হ’তে, তার পরিবারের পক্ষ হ’তে ও তার উম্মতের পক্ষ হ’তে।‘
এরপর উক্ত দুম্বা দ্বারা কুরবানী করলেন।

[তথ্যসূত্র : মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৫৪।]

Jakaria Srabon
Jakaria Srabon ami bolci sat vab e jodi goru kurbani jaiz hoi tahole cagol kurbani o jaiz hobe r jodi sat vag e cagol kurbani jaiz na hoi tar dolil dite hobe.jodi cagol kurbani poribarer pokkho theke hoi tahole goru kurbani o to poribarer pokkho theke hobe.jodi cagol r gorur bidhan alada hoi tahole sposto dolil lagbe

Sogood Islam Syeds
Write a reply…
 
Nayon Ahmed
Nayon Ahmed

কোরবানীর একটি পশু কয়জনের পক্ষ থেকে বৈধ হবে?

36387: কোরবানীর একটি পশু কয়জনের পক্ষ থেকে বৈধ হবে? [ https://islamqa.info/bn/36387 ]
প্রশ্ন: আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা সহ পরিবারের সদস্য আটজন। আমাদের জন্য কি একটি কোরবানীর পশু যথেষ্ট হবে? নাকি প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি পশু কোরবানী দিতে হবে? যদি একটি পশু যথেষ্ট হয় তাহলে আমি ও আমার প্রতিবেশী একই কোরবানীর পশুতে অংশীদার হওয়া বৈধ হবে কি?
Published Date: 2016-09-04
উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

কোরবানীর পশু হিসেবে একটি মেষ ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে এবং যত মুসলমানের পক্ষ থেকে নিয়ত করে সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। দলিল হচ্ছে আয়েশা (রাঃ) এর হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন একটি মেষ আনার নির্দেশ দিলেন যেটির পায়ের রঙ কালো, পেটের রঙ কালো, চোখের রঙ কালো। নির্দেশ অনুযায়ী কোরবানীর জন্য মেষটি আনা হল। তখন তিনি আয়েশা (রাঃ) কে বললেন: হে আয়েশা! তুমি ছুরিটি নিয়ে আস (অর্থাৎ আমাকে ছুরিটি দাও)। তিনি ছুরিটি নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছুরিটি এবং মেষটিকেও নিলেন। এরপর মেষটিকে শুইয়ে দিয়ে জবাই করলেন (অর্থাৎ জবাই করার প্রস্তুতি নিলেন)। এরপর বললেন: বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! এটি মুহাম্মদের পক্ষ থেকে, মুহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং উম্মতে মুহাম্মদীর পক্ষ থেকে কবুল করুন। অতঃপর তিনি সে মেষটি কোরবানী করলেন।[সহিহ মুসলিম]

ব্যাকেটের ভেতরের অংশটুকু ব্যাখ্যা; মূল হাদিসের অংশ নয়।

আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লামের যামানায় একজন ব্যক্তি একটি ছাগল দিয়ে নিজের পক্ষ থেকে ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দিত। নিজেরা খেত এবং অন্যদেরকেও খাওয়াত।”।[সুনানে ইবনে মাজাহ ও সুনানে তিরমিযি; তিরমিযি হাদিসটিকে ‘সহিহ’ বলেছেন। আলবানী সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে (১২১৬) হাদিসটিকে ‘সহিহ’ আখ্যায়িত করেছেন]

অতএব, কোন লোক যদি একটি ছাগল কিংবা একটি ভেড়া দিয়ে কোরবানী দেয় তাহলে সেটা তার নিজের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের মৃত বা জীবিত যত সদস্যদের পক্ষ থেকে নিয়ত করে সকলের পক্ষ থেকে জায়েয হবে। যদি আমভাবে বা খাসভাবে কোন নিয়ত না করে তাহলে ‘আহলে বাইত’ বা পরিবার বলতে মানুষের ব্যবহারে যাদেরকে বুঝায় কিংবা ভাষাগতভাবে যাদেরকে বুঝায় তারা সকলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথাগতভাবে ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণ করে— স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাদেরকে পরিবার বলে। আভিধানিক অর্থে পরিবার বলতে ব্যক্তির সেসব আত্মীয়দেরকে বুঝায় যারা তার নিজের বংশধর, তার পিতার বংশধর, তার দাদার বংশধর কিংবা তার প্রপিতামহের বংশধর।

একটি মেষ দিয়ে যাদের যাদের পক্ষ থেকে কোরবানী করা জায়েয একটি উটের সপ্তমাংশ কিংবা একটি গরুর এক সপ্তমাংশ দিয়ে তাদের সবার পক্ষ থেকে কোরবানী করা জায়েয। তাই, কেউ যদি এক সপ্তমাংশ উট দিয়ে কিংবা এক সপ্তমাংশ গরু দিয়ে তার পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দেয় সেটা জায়েয হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম হাদির পশুর ক্ষেত্রে এক সপ্তমাংশ উট ও এক সপ্তমাংশ গরুকে একটি ছাগলের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। অনুরূপ বিধান কোরবানীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যেহেতু এক্ষেত্রে কোরবানী ও হাদির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

দুই:

দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একটি মেষ ক্রয়ে অংশীদার হয়ে সবার পক্ষ থেকে কোরবানী দেয়া জায়েয নয়। কেননা কুরআন-সুন্নাতে এই মর্মে কিছু উদ্ধৃত হয়নি। অনুরূপভাবে আট বা ততোধিক ব্যক্তি একটি উট কিংবা একটি গরুতে অংশীদার হওয়া জায়েয নেই (তবে সাতজনের একটি উটে কিংবা গরুতে অংশীদার হওয়া জায়েয আছে)। কেননা ইবাদতগুলো তাওকিফিয়্যা (দলিলের সীমায় বিধান সীমাবদ্ধ এমন)। এগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না; সেটা সংখ্যাগত সীমা হোক কিংবা পদ্ধতিগত সীমা হোক। তবে, সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার করা যেতে পারে। যেমন সওয়াবের ক্ষেত্রে অগণিত মানুষকে অংশীদার করার কথা উল্লেখ আছে।

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

1 comment
Comments
কায়েদ মাহমুদ ইমরান

কায়েদ মাহমুদ ইমরান গরু বা উট ভাগে কুরবানি দিলেও পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে….? এটা মন গরা ব্যাক্ষা….

Unlike · Reply · 1 · 7 hrs

 

Mahmud Bin Abdul Kuddus

Mahmud Bin Abdul Kuddus ইমাম নববী রহ, এবং ফতয়া লাজনা দায়েমাহ, ফতয়া প্রদান করেছেন, ভাগে কুরবানি দিলে,এবং তা পুরো পরিবারের নিয়ত এ করলে, তা হবে।কারন এটা ইজতিহাদি বিষয়। দেখেন ফতয়া নং ৮৭৯০

Like · Reply · 1 · 7 hrs

কুরবানীর গোশত জরূরী ভিত্তিক তিন ভাগে বিভক্ত করে সমাজকে বিতরণ করতে দেওয়া

কুরবানীর গোশত জরূরী ভিত্তিক তিন ভাগে বিভক্ত করে সমাজকে বিতরণ করতে দেওয়া।
Xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
কিছু সমাজে জরূরী ভিত্তিক এমন নিয়ম ধার্য করা হয়েছে যে, তাদের গ্রামে বা সমাজে যারাই কুরবানী দিবে, তাদের অবশ্যই তাদের কুরবানীর গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করতে হবে। অতঃপর এক ভাগ যতক্ষণে সামাজে জমা না দেওয়া হয় ততক্ষণে তারা বাড়িতে গোশত নিয়ে যেতে পারবে না বা এই ধরণের অন্য নিয়ম। প্রথমতঃ শরীয়া কুরবানীর গোশতকে তিন ভাগে বিভক্ত করা জরূরী করে নি। “তোমরা নিজে খাও, অপরকে খাওয়াও এবং জমা রাখ”। [বুখারী, আযাহী, নং ৫৫৬৯] এবং অন্য হাদীস “তোমরা নিজে খাও, জমা রাখ এবং দান কর”। [মুসলিম নং ১৯৭১] এই হাদীসদ্বয়ের মাধ্যমে কুরবানীর গোশতের খাদ বুঝা যায়, তা আবশ্যিক ভাবে তিনভাগে বিভক্ত করা বুঝায় না। দ্বিতীয়তঃ (অপরকে খাওয়াও বা সাদাকা কর) সম্বোধনটি প্রত্যেক কুরবানীদাতাকে সম্বোধন সমাজের নেতাদের নয়। তাই কুরবানীর গোশতের বন্টন কুরবানী দাতা স্বয়ং করবে এটাই হাদীসের মর্ম। কিন্তু সমাজ বিতরণ করার দায়িত্ব নিলে তাদের জন্য এটা বৈধ তবে জরূরী নয়।
এই সামাজিক নিয়মের সমস্যা হল, তারা জোরপূর্বক মানুষের কাছ থেকে কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ বা আধা জমা নেয় বা নেয়ার নিয়ম বেঁধে দেয়। অথচ সাদাকা ও দান আল্লাহর উদ্দেশ্যে খাঁটি মনে স্বইচ্ছায় না দিলে কবূল হয় না। অনুরূপ কারো কাছ থেকে কোনো কিছু জোরপূর্বক নেওয়া এবং তা দান করাও নিষেধ। তাই এই নিয়মে সাদাকাকারীর ইখলাস ও আন্তরিকতা থাকে না ‌বরং থাকে সামাজিকতার অবৈধ চাপ।
এই জরূরী ভিত্তিক সামাজিক নিয়মের আর একটি সমস্যা হল, সমাজ যখন কুরবানীর গোশত জমা করে বিতরণ করে, তখন বিভিন্ন গ্রামের ফকীর-মিসক্বীন উপস্থিত হয় এবং তাদের ভাগ্যে আসে দুই-চার শত গ্রাম গোশত। তাই তাকে সেই দিনে আবারো ভিক্ষা করার ন্যায় ঘুরতে হয় ৫-১০ গ্রাম। অথচ প্রত্যেক গ্রামে কুরবানীদাতা স্বয়ং যদি তার আসেপাসে বসবাসকারী পরিচিতদের দুই-চার জনকে গোশত বিতরণ করে এই ভাবে অন্যরাও বিতরণ করে তাহলে গ্রামের সকল প্রয়োজনীয়দের বাসায় গোশত পৌঁছে যাবে। তাদের আর সেই দিন লজ্জা, কষ্ট, তিরষ্কার মাথায় নিয়ে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আরো একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে যা আমরা অনেকে অনুভব করি না। তা হল, অনেকে তার স্বল্প সাধ্যানুযায়ী একটি ছাগল বা একটি গরুর ভাগ কুরবানী দেয়। খুব বেশী তো তারা ৮-১০ কে.জি. গোশত পায়। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ বা আধা যদি সমাজিক নিয়মের কারণে তাদের দিতে হয়, তাহলে তার কাছে অবশিষ্ট থাকে ৫-৬ কে.জি.। এখন বাড়িতে-৭-৮ জন সদস্য সংখ্যা হলে অনুমান করুন তো তারা দুইবেলা মন পুরে গোশত খেতে পারবে কি? তারা নিজ আত্মীয় স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের দিতে পারবে কি? তাই এমন বহুলোক ভারাক্রান্ত মনে সমাজে নির্ধারিত অংশ জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে। অথচ এই দিনগুলি খান-পানের দিন। নবী (সাঃ) বলেনঃ “তাশরীকের দিনগুলি খান-পান ও আল্লাহর যিকরের দিন”। [মুসলিম, নং ১১৪১] তাই তারা প্রথমে আনন্দ করে খাবে এটা ঈদুল আযহার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। অতঃপর অন্যকেও দিবে। এমন লোক কুরবানী দাতা হলেও তাদের কুরবানীর গোশত হাদিয়া স্বরূপ দেওয়া উচিৎ
শ্রদ্ধেয় শায়খ Abdur Raquib

আসুন জেনে নেই কুরবানি এর ব্যপারে কিছু না জানা তথ্যঃ[old post.ok]

আস সালামুয়ালাইকুম

আসুন জেনে নেই কুরবানি এর ব্যপারে কিছু না জানা তথ্যঃ
————-
১- একটি গরুতে সরবচ্চ ৭ জন ভাগে কুরবানি করতে পারে, এর কমে ২,৩,৪,৫ বা ৬ ভাগেও করা যাবে কিন্তু ৭ এর বেশি করা যাবে না। আর ছাগল এক পরিবারের জন্য ১ টি যথেষ্ট। ছাগলে কোন ভাগ নেই।

২- পরিবারের কর্তা বা উপার্জন ক্ষম ব্যাক্তি তার পরিবারের পক্ষ থেকে [যাদের ভরন পোষণ তার উপর ফরজ ] ১ বা একের অধিক কুরবানি দিতে পারেন।

৩- গরুতে ১ টি ভাগ ১ টি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক সামর্থ্য বান ব্যাক্তি ১ টি করে প্রানি কুরবানি দিবে। কমপক্ষে ১ টি ছাগল হলেও। কারন ভাগে কুরবানি দেয়ার চেয়ে ১ টি জান ১ টি পরিবারের পক্ষে কুরবানি দেয়া অধিক উত্তম।

৪- রাসুল সা এর নামে কোন পশু বা ৭ নাম এর মধ্যে রাসুল সা এর নাম দেয়া বিদআত। রাসুল সা এর জন্য কুরবানি করার কোন দলিল নেই বরং তার জন্য দরুদ পাঠ করুন।

৫- মৃতের নামে কোন কুরবানি নেই , কুরবানি শুধু জিবিতদের জন্য। তবে মৃতের পক্ষে ১ বা ১ এর অধিক পশু সাদাকা এর উদ্দেশ্যে কুরবানি করা যায়। যার পুরাটাই গরিব মিস্কিন্দের দান করে দিতে হবে। এমনকি চামড়া বা এর অর্থ।

৬- কোন ব্যাক্তি তার পরিবারের জন্য কুরবানি দেয়ার নিয়ত করতে পারে এই ভাবে— যে “হে আল্লাহ এই কুরবানি আমার ও আমার পরিবারের জিবিতদের পক্ষ থেকে কবুল করুন” এই জন্য ৭ টি নাম দেয়া দরকার নেই। তিনি চাইলে তার ম্রিতদের শরীক করতে পারেন নিয়তে–যে “হে আল্লাহ এই কুরবানি আমার ও আমার পরিবারের জিবিতদের এবং মৃতদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।এতে সকলেই সাওয়াব পাবেন।

৭- একটি গরুতে ৭ ভাগে কুরবানি দেয়ার সময় যদি শরিকরা সবাই নামাজি ও হালাল ইনকামকারি হয় তবে উত্তম। না পেলে বেনামাজি বা হারাম ইনকাম কারিদের ও ভাগে শরীক করা যাবে। এক্ষেত্রে যে যার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।মনে রাখতে হবে হারাম ইনকামের কুরবানি আললহ কবুল করবেন না।

৮-কুরবানির সাথে আকিকা করার যে প্রচলন আমাদের দেশে আছে তা সঠিক না। এবং এতে কুরবানি হলেও আকিকা হবে না।।কারন ভাগে গরুতে আকিকা দেয়ার কোন সহি দলিল নেই। আকিকা ১ ছেলের জন্য ২ টি ছাগল ও ১ মেয়ের জন্য ১ টি ছাগল দেয়া সুন্নাহ।

৯- নিজের কুরবানি নিজে করবেন এইটা সুন্নাহ। এমনকি মহিলারাও তাদের নিজেদের কুরবানি নিজেরাই করতে পারেন। রাসুল সা নিজ হাতে কুরবানি করেছেন।

১০- কসাই বা যারা মাংস কাটে তাদের মজুরি কুরবানির গুস্ত থেকে দেয়া যাবে না। তাদের কুরবানির গুস্ত হাদিয়া হিসাবে দিবেন এবং নিজের পকেট থেকে তাদের মুজুরি দিবেন।

———————-

whats app group “আপুদের প্রশ্ন উত্তর” — উত্তর দেন সাইখ আব্দুল হামিদ ফাইজি মাদানি । । । । । । । । (courtesu JRahman.w.a)

ভাগে কুরবানী করার বিধানঃ

ভাগে কুরবানী করার বিধানঃ
—————————–
একথা সর্বজন বিদিত যে একটি গোটা জান কুরবানী দেয়াই উত্তম । কারণ একটি গোটা জান কুরবানী দিলে তা পুরা পরিবারের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়,যদিও সে পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাতেরও অধিক হয়। পক্ষান্তরে শরীক কুরবানী এর ব্যতিক্রম। ওটাতে যে শরীক হবে শুধু মাত্র তার পক্ষ থেকেই কুরবানী হবে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আদায় হবেনা। এক্ষনে উট ও গরুতে শরীক কুরবানী বৈধ কিনা সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
উট ও গরুতে শরীক হওয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একাধিক বিশুদ্ধ হাদীছ ও সালাফে সালেহীনের বাণী দ্বারা সূপ্রমানিত। নিম্নে সে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কতিপয় হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের বাণী পেশ করা হলঃ
(ক) নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র হাদীছ দ্বারা কুরবানীতে শরীক হওয়ার প্রমাণঃ
১) হাদীছঃ
عن ابن عباس قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه و سلم في سفر فحضر الأضحى فاشتركنا في البقرة سبعة وفي البعير عشرة
অর্থঃ আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে এক সফরে ছিলাম এমতাবস্থায় কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হল। তখন আমরা গরুতে সাত জন ও উটে দশজন করে শরীক হলাম। (তিরমিযী (হা/১৫০১) বাক্য তিরমিযীর, নাসায়ী (৭/২২২) ইবনু মাজাহ্ (৩১৩১) আহমাদ (১/২৭৫) হাকিম (৪/২৩০) মিশকাত হা/১৪৬৯।
২) হাদীছঃ
عن جابر بن عبدالله قال: كنا نتمتع مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعمرة فنذبح البقرة عن سبعة نشترك فيها (رواه مسلم برقم ১৩১৮)
অর্থঃ জাবির বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত,তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে উমরা দ্বারা উপকৃত হতাম। তখন আমরা একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে যবেহ করতাম, এভাবে আমরা তাতে শরীক হতাম। – মুসলিম (হা/১৩১৮)
৩) হাদীছঃ
عن جابر بن عبدالله قال: نحرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الحديبية البدنة عن سبعة والبقرة عن سبعة (مسلم
অর্থঃ জাবের বিন আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ আমরা হুদায়বিয়ার সনে উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং গরু ও সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছিলাম। (মুসলিম, হা/১৩১৮, অবু দাউদ হা/২৮০৯, তিরমিযী হা/৯০৪, ইবনু মাজাহ্ হা/৩১৩২)
কেউ কেউ বলে থাকেন যে, কুরবানীতে শরীক হওয়া সফরের এবং হজ্জের সাথে খাস। কারণ উপরোল্লেখিত হাদীছ সফরের কথা এসেছে। তাই বলি, শরীক কুরবানীকে সফরের সাথে খাস করার পিছনে আমি কোন যুক্ত দেখিনা। কথাটি আমাকে বেদলীল এবং অযুক্তিক বলে মনে হয়। কারণঃ
(১) উক্ত বর্ণনা গুলিতে সফরের কথা থাকলেও সেখানে ঘুনাক্ষরেও একথা আসেনি যে, উক্ত শরীক কুরবানী সফরের সাথেই খাস ও মুকীম অবস্থায় চলবে না।
(২) মুহাদ্দিসীনে কেরামের অনেকেই উক্ত হাদীছগুলো সাধারণভাবে কুরবানীর অধ্যায়ে এনেছেন। কিন্তু তাঁরা বিষয়টিকে সফরের সাথে খাস করেননি। এ থেকেও বুঝা যায় যে,তারা ঐসব হাদীছকে এমনি সফর বা হজ্জের সফরের সাথে খাস হওয়া মনে করেননি।
(৩) হাদীছের ব্যাখ্যাকারগণও এসব হাদীছকে সফরের সাথে খাস করেননি। যেমন আল্লামা আযীমা বাদী,শাইখ আব্দুর রহমান মুবারকপূরী। শাইখ ওবায়দুল্লাহ রহমানী তাঁরা কেউ-ই উক্ত কুরবানীতে শরীক সম্পর্কিত হাদীছ গুলিকে সফরের সাথে খাস করেননি।
(৪) সফরের সাথে শরীক কুরবানীকে তা সফরে সংগঠিত হওয়ার জন্য তার সাথেই খাস করলে যতকিছু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ছাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক সফরে ঘটেছে তার সবগুলোকেই ঐ সফরের সাথে খাস করা দরকার। আর এ অবস্থায় শরীআতের বহু মাসায়েল আমল থেকে বাদ পড়ে যাবে।
(৫) কুরবানীতে শরীক হওয়া যে সফরের সাথে খাস নয় তার প্রমাণে আরো একাধিক হাদীছ ও ছাহাবীদের উক্তি আছে নিম্নে সেগুলো পরিবেশিত হলঃ
হাদীছঃ
عن عبدالله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : البقرة عن سبعة والجزور عن سبعة في الأضاحي (رواه الطبراني في الصغير والأوسط وصححه الألباني في صحيح الجامع الصغير، انظر: صحيح الجامع الصغير برقم ২৮৯০)
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন কুরবানীর ক্ষেত্রে গরুতে সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উটে সাত জনের পক্ষ থেকে (যথেষ্ট)। [তাবারানীর আল মুজামুস সাগীর, আল মুজামুল আওসাত, হাদীছটিকে ইমাম আলবানী ছহীহ বলেছেন। দ্রঃ ছহীহুল জামে, আসসগীর (হা/২৮৯০)]
অত্র হাদীছটি নবীর কওলী (বাচনিক) হাদীছ যেখানে তিনি সফরের কথা মোটেই উল্লেখ না করে ব্যাপক ভাবে বলেছেন, কুরবানীর ক্ষেত্রে গরুতে সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উটে সাত জনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট
হাদীছঃ
عن الشعبي : قال: سألتُ ابن عمر ، قلتُ: الجزور والبقرة تجزئ عن سبعة ؟ قال: يا شعبي ولها سبعة أنفس ؟ قال: قلتُ: إن أصحاب محمد يزعمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سن الجزور عن سبعة والبقرة عن سبعة، فقال ابن عمر لرجل أكذلك يافلان؟ قال: نعم، قال: ماشعرتُ بهذا
শাবী হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ আমি ইবনু ওমার (রাঃ)কে প্রশ্ন করলাম,বললামঃ উট ও গরু কি সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যাবে? তিনি বললেনঃ হে শাবী তার কি সাতটি আত্মা আছে?। (শাবী বলেন) আমি বললামঃ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর (অন্যান্য) ছাহাবীগণ তো বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উটকে সাত জনের পক্ষ থেকে এবং গরুকেও সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া মাসনুন (বিধিসম্মত) করেছেন। এতদশ্রবনে ইবনু উমার এক ব্যক্তিকে বললেনঃ এরকমই কি তারা বলেন হে ওমুক। লোকটি বললঃ জি, হাঁ। ইবনু উমার তখন বললেনঃ এটা তবে আমি অনুধাবন করতে পারিনি। (মুসনাদ আহমাদ,ইমাম হায়সামী বলেনঃ হাদীছটির রিজাল তথা রাবীগণ ছহীহ (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থের রাবী। মাজমাউয যাওয়ায়েদ (৩/২২৬) শাইখ মুস্তফা বিন আদাবী বলেনঃ হাদীছটির সনদ ছহীহ,দ্রঃ ফিকহুল উযহিয়্যাহ: ৮৪ পৃষ্ঠার ১নং টীকা)
হাদীছটি মুহাল্লায় ইবনু আবী শাইবার সূত্রে নিম্নরূপ এসেছেঃ
عن الشعبي قال: سألتُ ابن عمر عن البقرة والبعير تجزئ عن سبعة ؟ فقال: كيف أولها سبعة أنفس؟ قلتُ: إن أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم الذين بالكوفة أفتوني فقالوا: نعم قاله النبي صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وعمر فقال ابن عمر: ماشعرتُ ، قال في فقه الأضحية: ৮৮ صحيح بما قبله يقصد به حديث أحمد السابق )
শাবী হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ আমি ইবনু ওমার (রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করলামঃ গরু ও উট সাত জনের পক্ষ হতে (কুরবানীতে) কি যথেষ্ট? ইবনু ওমার (রাঃ) বললেনঃ এটা কিভাবে হবে,ওর কি সাতটি আত্মা আছে? আমি বললামঃ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছাহাবীগণ যারা কুফায় রয়েছেন তাঁরা তো আমাকে এই মর্মে ফতোয়া দিয়ে বলেছেন যে, হাঁ চলবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বাকর ও ওমার (রা.)ও তাই বলেছেন। এতদশ্রবণে ইবনু ওমার বললেনঃ আমি তাহলে এটা অনুভব করতে পারিনি। (হাদীছটি পূর্ব বর্ণিত হাদীছ দ্বারা বিশুদ্ধ। দ্রঃ ফিকহুল উযহিয়্যাহঃ ৮৮)
অত্র হাদীছেও সফরের কোন উল্লেখই নেই এবং সফর সংক্রান্ত হাদীছের রাবীও এই হাদীছটির রাবী নয় কাজেই সেই অযুহাত এখানে চলবে না যে,“একই রাবীর বর্ণিত সংক্ষিপ্ত হাদীছের স্থলে বিস্তারিত ও ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীছ দলীলের ক্ষেত্রে গ্রহণ করাই মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মত রীতি”। এ হাদীছের পূর্বের যে হাদীছ বর্ণণা করা হয়েছে তার রাবীও ভিন্ন অর্থ্যাৎ জাবির (রাঃ) নয় বরং আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ। এতদসত্বেও ঐ হাদীছটি মারফু হাদীছ এবং নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র বাচনিক হাদীছ যা ফেলী হাদীছের উপর অগ্রাধিকার লাভকারী ।
*হাদীছঃ
عن جابر بن عبدالله أن النبي قال: البقرة عن سبعة والجزور عن سبعة
জাবের (রাঃ) হতে বর্নিত নবী বলেন, গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে ( কুরবানী হবে )। (আবূ দাউদ হা /২৮০৮) মিশকাত হা /১৪৫৮)
অত্র হাদীছেও সফরের কোন উল্লেখ নেই। পক্ষান্তরে ইহা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র কাওলী হাদীছ। তা ছড়াও জাবির কর্তৃক বিস্তারিত বর্ণনাতেও একথা আদৌ বলা হয়নি ঐ শরীক কুরবানী সফরের সাথেই খাস ছিল । তাঁরা সফরে থাকাবস্থায় কুরবানীর ঈদ উপস্থিত হলে তখন কি ঘটেছিল শুধু তাই বলা হয়েছে অন্য কিছু বলা হয়নি ।
*হাদীছঃ
عن زهير بن يعني ابن أبي ثابت قال: سمعتُ المغيرة بن حذف العبسي سمع رجلا من همدان سأل عليا رضى الله عن رجل : اشترى بقرة ليضحي بها فنتجت، فقال: لا تشرب لبنها إلا فضلا وإذا كان يوم النحر فاذبحها هى وولدها عن سبعة
অর্থঃ যুহাইর বিন আবূ সাবিত হতে বর্ণিত,তিনি বলেন আমি মুগীরাহ বিন হাযাফ আল আবসীর কাছ থেকে শুনেছি তিনি হামদান এলাকায় এক ব্যক্তিকে আলীর নিকট অপর এক ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন,সে কুরবানী দেয়ার জন্য একটি গাভী ক্রয় করেছে,কিন্ত গাভীটি (ইতমধ্যে ) বাচ্চা প্রসাব করে ফেলেছে এ ব্যাপারে তার কি করণীয়? আলী (রাঃ) বললেন, (তাকে বলবে) তুমি শুধু বাচ্চার উদ্বৃত্ত দুধটুকুই খাবে। আর যখন কুরবানীর দিন আসবে তখন তাকে ও তার বাচ্চাকে সাত জনের পক্ষ হতে যবেহ করবে। (বায়হাক্বী (৫/৩৮৮ ) অত্র হাদীছটি সম্পর্কে হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, হাদীছটিকে ইবনু আবী হাতিম তার ইলাল নামক গ্রন্থে (২/৪৬) উল্লেখ করেছেন এবং আবূ যুরআ থেকে বর্ননা করেছেন যে,তিনি বলেছেন, হাদীছটি ছহীহ (দ্রঃ তালখীসুল হাবীর ৪/১৪৬ )
*হাদীছঃ
عن حجية بن عدي عن على أنه سئل عن البقرة، فقال: عن سبعة ، قال: مكسورة القرن؟ قال: لا تضرك (رواه البيهقي)
হুজ্জিয়া বিন আদী হতে বর্ণিত,তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তাকে (আলীকে) জিজ্ঞাসা করা হল গরু সম্পর্কে (ওটা ভাগে কুরবানী দেয়া যায় কিনা?) তিনি বললেন সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যাবে। লোকটি বললঃ শিং ভাঙ্গা গরু কি কুরবানী দেয়া যাবে? তিনি বললেন ওটা তোমার কোন অসুবিধা করবে না। (বায়হাক্বি। হাদীছটি ছহীহ, দ্র: ফিকহুল উযহিয়্যাহ/ ৫৪ )
আল্লাহ আমাদেরকে হক জানার ও মানার তাউফিক দান করুন। আমীন।।
———————–
শায়খ আখতারুল আমান আবদুস সালাম
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক দাঈ, জুবাইল দাওয়া এণ্ড গেইডেণ্স সেন্টার, সৌদী আরব।
বর্তমান দাঈ, কুয়েত (কুয়েত সিটি)।
বিঃদ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংগ্রহ করুন শাইখ আখতারুল আমান সংকলিত ও শাইখ আকরামুজ্জামান সম্পাদিত বই- “মুকিম অবস্থায় শরীক কুরবানীর বিষয়ে সমাধান”

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

*হাদীছঃ
عن جابر بن عبدالله أن النبي قال: البقرة عن سبعة والجزور عن سبعة
জাবের (রাঃ) হতে বর্নিত নবী বলেন, গরু সাত জনের পক্ষ থেকে এবং উট সাত জনের পক্ষ থেকে ( কুরবানী হবে )। (আবূ দাউদ হা /২৮০৮; মিশকাত হা/১৪৫৮)
অত্র হাদীছেও সফরের কোন উল্লেখ নেই। পক্ষান্তরে ইহা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র কাওলী হাদীছ। সুতরাং মুকিম অবস্থায় ভাগে কুরবানী জায়েজ।

comment- মোঃ মেহেদী হাসান কোন সন্দেহ নেই, স্পষ্ট হাদিস

কুরবানির হুকুম কি? ওয়াজিব না সুন্নত?

Rafia Begum to আপনার জিজ্ঞাসা–> জেনে নিন–> দ্বীনি প্রশ্নোত্তর

কুরবানির হুকুম:

কুরবানির হুকুম কি? ওয়াজিব না সুন্নত?

এ বিষয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে এবং তাদের দুটো মত রয়েছে।

প্রথম মত: কুরবানি ওয়াজিব। ইমাম আওযায়ী, ইমাম লাইস, ইমাম আবু হানীফা রহ. প্রমুখের মত এটাই। আর ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ রহ. থেকে একটি মত বর্ণিত আছে যে তারাও ওয়াজিব বলেছেন।

দ্বিতীয় মত: কুরবানি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এটি অধিকাংশ আলেমের মত এবং ইমাম মালেক ও শাফেয়ী রহ.-এর প্রসিদ্ধ মত। কিন্তু এ মতের প্রবক্তারা আবার বলেছেন: সামর্থ্য থাকা অবস্থায় কুরবানি পরিত্যাগ করা মাকরূহ। যদি কোনো জনপদের লোকেরা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সম্মিলিতভাবে কুরবানি পরিত্যাগ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে। কেননা, কুরবানি হল ইসলামের একটি শি‘য়ার বা মহান নিদর্শন।

যারা কুরবানি ওয়াজিব বলেন তাদের দলিল:

[এক] আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন:—

﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢ ﴾ [الكوثر: ٢]

‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং (পশু) কুরবানি কর।’ [সূরা কাউছার, আয়াত: ২] আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালন ওয়াজিব।

[দুই] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:—

«من وجد سعة ولم يضح، فلا يقربن مصلانا ». رواه أحمد وابن ماجه، وصححه الحاكم.

‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।’[1]

যারা কুরবানি পরিত্যাগ করে তাদের প্রতি এ হাদিস একটি সতর্ক-বাণী। তাই কুরবানি ওয়াজিব।

[তিন] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:—

«يا أيها الناس: إن على كل أهل بيت في كل عام أضحية ». . رواه أحمد وابن ماجه، حسنه الألباني

হে মানব সকল ! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল প্রতি বছর কুরবানি দেয়া।[2]

আর যারা কুরবানি দেওয়া সুন্নত বলেন তাদের দলিল হচ্ছে:

[এক] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:—

«إذا رأيتم هلال ذي الحجة، وأراد أحدكم أن يضحي، فليمسك عن شعره وأظفاره، حتى يضحي ». رواه مسلم

‘তোমাদের মাঝে যে কুরবানি করতে চায়, যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর সে যেন কুরবানি সম্পন্ন করার আগে তার কোনো চুল ও নখ না কাটে।’[3]

এ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘যে কুরবানি করতে চায়’ কথা দ্বারা বুঝে আসে এটা ওয়াজিব নয়।

[দুই] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের মাঝে যারা কুরবানি করেনি তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করেছেন। তার এ কাজ দ্বারা বুঝে নেয়া যায় যে কুরবানি ওয়াজিব নয়।

শাইখ ইবনে উসাইমীন রহ. উভয় পক্ষের দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করার পর বলেন: এ সকল দলিল-প্রমাণ পরস্পর বিরোধী নয় বরং একটা অন্যটার সম্পূরক।

সারকথা হল যারা কুরবানিকে ওয়াজিব বলেছেন তাদের প্রমাণাদি অধিকতর শক্তিশালী। আর ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মত এটাই[4] আর বর্তমান কালের শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ উসাইমীন এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

কুরবানির ফযিলত

[ক] কুরবানি দাতা নবী ইবরাহিম আ. ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করে থাকেন।

[খ] পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কুরবানি দাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন:—

﴿لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمۡ لِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٣٧﴾ [الحج : ٣٧]

‘আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন মুহসিনদেরকে।’[5]

[গ] পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অভাবীদের আনন্দ দান। আর এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কুরবানির গোশতের পরিমাণ টাকা যদি আপনি তাদের সদকা দিতেন তাতে অর্জিত হত না। কুরবানি না করে তার পরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কুরবানি আদায় হবে না।

কুরবানির শর্তাবলি:

[১] এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। এ গুলোকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহীমাতুল আন‘আম।’ যেমন, আল্লাহ বলেন:—

﴿ وَلِكُلِّ أُمَّةٖ جَعَلۡنَا مَنسَكٗا لِّيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۗ ٣٤ ﴾ [الحج : ٣٤]

‘আমরা প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’[6] হাদিসে এসেছে:—

عن جابر- رضى الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:لا تذبحوا إلا مسنة، إلا أن تعسر عليكم، فتذبحوا جذعة من الضأن. [رواه مسلم]

জাবের রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা অবশ্যই এক বছরের বয়সের ছাগল কুরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কুরবানি করতে পার”।[7] আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো জন্তু কুরবানি করেননি ও কুরবানি করতেও বলেননি। তাই কুরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে। ইমাম মালিক রহ.-এর মতে কুরবানির জন্য সর্বোত্তম জন্তু হল শিং ওয়ালা সাদা-কালো দুম্বা। কারণ রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের দুম্বা কুরবানি করেছেন বলে বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে। উট ও গরু-মহিষে সাত ভাগে কুরবানি দেয়া যায়। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن جابر- رضى الله عنه- أنه قال: نحرنا بالحديبية مع النبي صلى الله عليه وسلم البدنة عن سبعة، والبقرة عن سبعة.

জাবের রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমরা হুদাইবিয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন আমরা উট ও গরু দ্বারা সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছি।’[8]

গুণগত দিক দিয়ে উত্তম হল কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া।

[২] শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের।

[৩] কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। যেমন হাদিসে এসেছে:—

عن البراء بن عازب- رضى الله عنه- قال: قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «أربع لا تجوز في الأضاحي،- وفي رواية: تجزىء – العوراء البين عورها، والمريضة البين مرضها، والعرجاء البين ضلعها، والكسيرة التي لا تنقى ». [رواه الترمذي وفي رواية النسائي] ذكر [العجفاء] بدل [الكسيرة] وصححه الألباني في صحيح سنن النسائي

সাহাবি আল-বারা ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন: চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না—অন্ধ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায় ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে।[9]

আবার পশুর এমন কতগুলো ত্রুটি আছে যা থাকলে কুরবানি আদায় হয় কিন্তু মাকরূহ হবে। এ সকল দোষত্রুটি যুক্ত পশু কুরবানি না করা ভাল। সে ত্রুটিগুলো হল শিং ভাঙ্গা, কান কাটা, লেজ কাটা, ওলান কাটা, লিঙ্গ কাটা ইত্যাদি।

[৪] যে পশুটি কুরবানি করা হবে তার উপর কুরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না।

কুরবানির ওয়াক্ত বা সময়:

কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন কুরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না।

যারা ঈদের সালাত আদায় করবেন তাদের জন্য কুরবানির সময় শুরু হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে। যদি ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে কুরবানির পশু যবেহ করা হয় তাহলে কুরবানি আদায় হবে না। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن البراء بن عازب -رضى الله عنه- قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب فقال: «إن أول ما نبدأ به من يومنا هذا، أن نصلى ثم نرجع فننحر، فمن فعل هذا فقد أصاب سنتنا، ومن نحر قبل أن يصلي فإنما هو لحم قدمه لأهله، ليس من النسك في شيء ». [رواه البخاري]

আল-বারা ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাতে বলেছেন: এ দিনটি আমরা শুরু করব সালাত দিয়ে। অতঃপর সালাত থেকে ফিরে আমরা কুরবানি করব। যে এমন আমল করবে সে আমাদের আদর্শ সঠিকভাবে অনুসরণ করল। আর যে এর পূর্বে যবেহ করল সে তার পরিবারবর্গের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করল। কুরবানির কিছু আদায় হল না।[10]

সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুরবানি পশু যবেহ না করে সালাতের খুতবা দুটি শেষ হওয়ার পর যবেহ করা ভাল। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকম করেছেন। হাদিসে এসেছে—

قال جندب بن سفيان البجلي -رضى الله عنه-: صلى النبى صلى الله عليه وسلم يوم النحر، ثم خطب ثم ذبح … ]رواه البخاري [

সাহাবি জুনদাব ইবনে সুফিয়ান আল-বাজালী রা. বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিন সালাত আদায় করলেন অতঃপর খুতবা দিলেন তারপর পশু যবেহ করলেন।[11]

عن جندب بن سفيان قال: شهدت النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر قال: «من ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى، ومن لم يذبح فليذبح.» [رواه البخاري]

জুনদুব ইবনে সুফিয়ান বলেন, আমি কুরবানির দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নামাজের পূর্বে যবেহ করেছে সে যেন আবার অন্য স্থানে যবেহ করে। আর যে যবেহ করেনি সে যেন যবেহ করে।[12]

আর কুরবানির সময় শেষ হবে যিলহজ মাসের তেরো তারিখের সূর্যাস্তের সাথে সাথে। অতএব কুরবানির পশু যবেহ করার সময় হল চার দিন। যিলহজ মাসের দশ, এগারো, বার ও তেরো তারিখ। এটাই উলামায়ে কেরামের নিকট সর্বোত্তম মত হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। কারণ:

এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন:—

﴿ لِّيَشۡهَدُواْ مَنَٰفِعَ لَهُمۡ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۖ ٢٨ ﴾ [الحج : ٢٨]

‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে।’[13]

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারি রহ. বলেন: ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: ‘এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে বুঝায় কুরবানির দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’

অতএব এ দিনগুলো আল্লাহ তা‘আলা কুরবানির পশু যবেহ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:—

كل أيام التشريق ذبح. [رواه أحمد، صححه الألباني في السلسلة الصحيحة]

‘আইয়ামে তাশরীকের প্রতিদিন যবেহ করা যায়।’[14] আইয়ামে তাশরীক বলতে কুরবানির পরবর্তী তিন দিনকে বুঝায়।

তিন. কুরবানির পরবর্তী তিন দিনে সওম পালন জায়েয নয়। এ দ্বারা বুঝে নেয়া যায় যে এ তিন দিনে কুরবানি করা যাবে।

চার. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আইয়ামে তাশরীক হল খাওয়া, পান করা ও আল্লাহর জিকির করার দিন।’

এ দ্বারা বুঝে নিতে পারি যে, যে দিনগুলো আল্লাহ খাওয়ার জন্য নির্ধারণ করেছেন সে দিনগুলোতে কুরবানির পশু যবেহ করা যেতে পারে।

পাঁচ. সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয়, কুরবানির পরবর্তী তিনদিন কুরবানির পশু যবেহ করা যায়।

ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন: আলী ইবনে আবি তালেব রা. বলেছেন: ‘কুরবানির দিন হল ঈদুল আজহার দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন।’ অধিকাংশ ইমাম ও আলেমদের এটাই মত। যারা বলেন, কুরবানির দিন হল মোট তিন দিন; যিলহজ মাসের দশ, এগারো ও বার তারিখ, বার তারিখের পর যবেহ করলে কুরবানি হবে না, তাদের কথার সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই ও মুসলিমদের ঐক্যমত্য [ইজমা] প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

মৃত ব্যক্তির পক্ষে কুরবানি

মূলত কুরবানির প্রচলন জীবিত ব্যক্তিদের জন্য। যেমন আমরা দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিগণ নিজেদের পক্ষে কুরবানি করেছেন। অনেকের ধারণা কুরবানি শুধু মৃত ব্যক্তিদের জন্য করা হবে। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। তবে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কুরবানি করা জায়েয ও একটি সওয়াবের কাজ। কুরবানি একটি সদকা। আর মৃত ব্যক্তির নামে যেমন সদকা করা যায় তেমনি তার নামে কুরবানিও দেয়া যায়।

যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য সদকার বিষয়ে হাদিসে এসেছে—

عن عائشة- رضى الله عنها- أن رجلا أتى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله: إن أمي افتلتت نفسها ولم توصى، وأظنها لو تكلمت تصدقت، أفلها أجر إن تصدقت عنها ؟ قال: « نعم » . [رواه البخاري ومسلم]

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—হে রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। কোনো অসিয়ত করে যেতে পারেন নি। আমার মনে হয় তিনি কোনো কথা বলতে পারলে অসিয়ত করে যেতেন। আমি যদি এখন তার পক্ষ থেকে সদকা করি তাতে কি তার সওয়াব হবে ? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ।[15]

মৃত ব্যক্তির জন্য এ ধরনের সদকা ও কল্যাণমূলক কাজের যেমন যথেষ্ট প্রয়োজন ও তেমনি তা তাঁর জন্য উপকারী।

এমনিভাবে একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব প্রেরণের উদ্দেশ্যে একটি কুরবানি করা জায়েয আছে। অবশ্য যদি কোনো কারণে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে তার জন্য পূর্ণ একটি কুরবানি করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায়, ব্যক্তি নিজেকে বাদ দিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরবানি করেন। এটা মোটেই ঠিক নয়। ভাল কাজ নিজেকে দিয়ে শুরু করতে হয় তারপর অন্যান্য জীবিত ও মৃত ব্যক্তির জন্য করা যেতে পারে। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن عائشة وأبي هريرة -رضى الله عنهما- أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد أن يضحي، اشترى كبشين عظيمين سمينين أقرنين أملحين موجوئين، [مخصيين] فذبح أحدهما عن أمته، لمن شهد لله بالتوحيد، وشهد له بالبلاغ، وذبح آخر عن محمد، وعن آل محمد- صلى الله عليه وسلم- . [صحيح ابن ماجة [صححه الألباني]

আয়েশা রা. ও আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি দিতে ইচ্ছা করলেন তখন দুটো দুম্বা ক্রয় করলেন। যা ছিল বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিং ওয়ালা, সাদা-কালো বর্ণের এবং খাসি। একটি তিনি তার ঐ সকল উম্মতের জন্য কুরবানি করলেন; যারা আল্লাহর একত্ববাদ ও তার রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে, অন্যটি তার নিজের ও পরিবার বর্গের জন্য কুরবানি করেছেন।[16]

মৃত ব্যক্তি যদি তার সম্পদ থেকে কুরবানি করার অসিয়ত করে যান তবে তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানি করা কুরবানি:

যাকে ‘শরীকে কুরবানি দেয়া’ বলা হয়।

ভেড়া, দুম্বা, ছাগল দ্বারা এক ব্যক্তি একটা কুরবানি করতে পারবেন। আর উট, গরু, মহিষ দ্বারা সাত জনের পক্ষ থেকে সাতটি কুরবানি করা যাবে। ইতোপূর্বে জাবের রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়েছে।

অংশীদারি ভিত্তিতে কুরবানি করার দুটি পদ্ধতি হতে পারে:

[এক] সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হওয়া। যেমন কয়েক জন মুসলিম মিলে একটি বকরি ক্রয় করল। অতঃপর একজনকে ঐ বকরির মালিক বানিয়ে দিল। বকরির মালিক বকরিটি কুরবানি করল। যে কজন মিলে বকরি খরিদ করেছিল সকলে সওয়াবের অংশীদার হল।

[দুই] মালিকানার অংশীদারির ভিত্তিতে কুরবানি। দু জন বা ততোধিক ব্যক্তি একটি বকরি কিনে সকলেই মালিকানার অংশীদার হিসেবে কুরবানি করল। এ অবস্থায় কুরবানি শুদ্ধ হবে না। অবশ্য উট, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি জায়েয আছে।

মনে রাখতে হবে কুরবানি হল একটি ইবাদত ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের উপায়। তাই তা আদায় করতে হবে সময়, সংখ্যা ও পদ্ধতিগত দিক দিয়ে শরিয়ত অনুমোদিত নিয়মাবলী অনুসরণ করে। কুরবানির উদ্দেশ্য শুধু গোশত খাওয়া নয়, শুধু মানুষের উপকার করা নয় বা শুধু সদকা [দান] নয়। কুরবানির উদ্দেশ্য হল আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি মহান নিদর্শন তার রাসূলের নির্দেশিত পদ্ধতিতে আদায় করা।

তাই, আমরা দেখলাম কীভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশতের বকরি ও কুরবানির বকরির মাঝে পার্থক্য নির্দেশ করলেন। তিনি বললেন যা সালাতের পূর্বে যবেহ হল তা বকরির গোশত আর যা সালাতের পরে যবেহ হল তা কুরবানির গোশত।

কুরবানি দাতা যে সকল কাজ থেকে দূরে থাকবেন:

যখন কেউ কুরবানি পেশ করার ইচ্ছা করে আর যিলহজ মাস প্রবেশ করে। তার জন্য চুল, নখ অথবা চামড়ার কোনো অংশ কাটা থেকে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না কুরবানি করবে।

হাদিসে এসেছে—

عن أم سلمة- رضى الله عنها- أن النبي- صلى الله عليه وسلم- قال: « إذا رأيتم هلال ذي الحجة، وأراد أحدكم أن يضحي، فليمسك عن شعره وأظفاره» . [رواه مسلم] وفي رواية له: « فلا يمس من شعره وبشره شيئا » ، وفي رواية: حتى يضحي.

উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মাঝে যে কুরবানি করার ইচ্ছে করে সে যেন যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। ইমাম মুসলিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তার অন্য একটি বর্ণনায় আছে—‘সে যেন চুল ও চামড়া থেকে কোনো কিছু স্পর্শ না করে। অন্য বর্ণনায় আছে ‘কুরবানির পশু যবেহ করার পূর্ব পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকবে।’[17]

কুরবানি দাতার পরিবারের লোক জনের নখ, চুল ইত্যাদি কাঁটাতে কোনো সমস্যা নেই।

কোন কুরবানি দাতা যদি তার চুল, নখ অথবা চামড়ার কোনো অংশ কেটে ফেলে তার জন্য উচিৎ তাওবা করা, পুনরাবৃত্তি না করা, তবে এ জন্য কোনো কাফফারা নেই এবং এ জন্য কুরবানিতে কোনো সমস্যা হবে না। আর যদি ভুলে, অথবা না জানার কারণে অথবা অনিচ্ছাসত্বে কোনো চুল পড়ে যায়, তার কোনো গুনাহ হবে না। আর যদি সে কোনো কারণে তা করতে বাধ্য হয়, তাও তার জন্য জায়েয, এ জন্য তার কোনো কিছু প্রদান করতে হবে না। যেমন নখ ভেঙ্গে গেল, ভাঙ্গা নখ তাকে কষ্ট দিচ্ছে সে তা কর্তন করতে পারবে, তদ্রূপ কারো চুল লম্বা হয়ে চোখের উপর চলে আসছে সেও চুল কাটতে পারবে অথবা কোনো চিকিৎসার জন্যও চুল ফেলতে পারবে।

কুরবানি দাতা চুল ও নখ না কাটার নির্দেশে কি হিকমত রয়েছে এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম অনেক কথা বলেছেন। অনেকে বলেছেন: কুরবানি দাতা হজ করার জন্য যারা এহরাম অবস্থায় রয়েছেন তাদের আমলে যেন শরিক হতে পারেন, তাদের সাথে একাত্মতা বজায় রাখতে পারেন।

ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেছেন: ‘কুরবানি দাতা চুল ও নখ বড় করে তা যেন পশু কুরবানি করার সাথে সাথে নিজের কিছু অংশ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানি [ত্যাগ] করায় অভ্যস্ত হতে পারেন এজন্য এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ যদি কেউ যিলহজ মাসের প্রথম দিকে কুরবানি করার ইচ্ছা না করে বরং কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর কুরবানির নিয়ত করল সে কি করবে? সে নিয়ত করার পর থেকে কুরবানির পশু যবেহ পর্যন্ত চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে।

ফুটনোটঃ[1] আহমদ, ইবনু মাজাহ: ৩৫১৬

[2] ইবনু মাজাহ: ৩১২৫

[3] মুসলিম: ১৯৭৭

[4] মাজমূ ফাতাওয়া ৩২/১৬২-১৬৪।

[5] সূরা হজ, আয়াত: ৩৭

[6] সূরা হজ, আয়াত: ৩৪

[7] মুসলিম, হাদিস: ১৯৩৬

[8] ইবনে মাজাহ্‌: ৩১৩২

[9] তিরমিযি, হাদিস: ১৫৪৬, নাসায়ী: ৪৩৭১

[10] বুখারি: ৯৬৫

[11] বুখারি, হাদিস: ৯৮৫

[12] বুখারি, হাদিস: ৫৫৬২

[13] সূরা আল-হজ, আয়াত: ২৮

[14] বর্ণনায় আহমদ, হাদিস: ৪/৮২

[15] বুখারি: ১৩৩৮,২৭৬০, মুসলিম: ১০৪।

[16] ইবনে মাজা, হাদিস: ২৫৩১

[17] মুসলিম: ১৯৭৭

যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন, ঈদ, কুরবানি ও আইয়ামে তাশরীকের দিনসমূহ করনীয়, বর্জনীয় ও সুন্নাহ সমূহ:
জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের