RSS Feed

কুরবানীর গোশত জরূরী ভিত্তিক তিন ভাগে বিভক্ত করে সমাজকে বিতরণ করতে দেওয়া

কুরবানীর গোশত জরূরী ভিত্তিক তিন ভাগে বিভক্ত করে সমাজকে বিতরণ করতে দেওয়া।
Xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
কিছু সমাজে জরূরী ভিত্তিক এমন নিয়ম ধার্য করা হয়েছে যে, তাদের গ্রামে বা সমাজে যারাই কুরবানী দিবে, তাদের অবশ্যই তাদের কুরবানীর গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করতে হবে। অতঃপর এক ভাগ যতক্ষণে সামাজে জমা না দেওয়া হয় ততক্ষণে তারা বাড়িতে গোশত নিয়ে যেতে পারবে না বা এই ধরণের অন্য নিয়ম। প্রথমতঃ শরীয়া কুরবানীর গোশতকে তিন ভাগে বিভক্ত করা জরূরী করে নি। “তোমরা নিজে খাও, অপরকে খাওয়াও এবং জমা রাখ”। [বুখারী, আযাহী, নং ৫৫৬৯] এবং অন্য হাদীস “তোমরা নিজে খাও, জমা রাখ এবং দান কর”। [মুসলিম নং ১৯৭১] এই হাদীসদ্বয়ের মাধ্যমে কুরবানীর গোশতের খাদ বুঝা যায়, তা আবশ্যিক ভাবে তিনভাগে বিভক্ত করা বুঝায় না। দ্বিতীয়তঃ (অপরকে খাওয়াও বা সাদাকা কর) সম্বোধনটি প্রত্যেক কুরবানীদাতাকে সম্বোধন সমাজের নেতাদের নয়। তাই কুরবানীর গোশতের বন্টন কুরবানী দাতা স্বয়ং করবে এটাই হাদীসের মর্ম। কিন্তু সমাজ বিতরণ করার দায়িত্ব নিলে তাদের জন্য এটা বৈধ তবে জরূরী নয়।
এই সামাজিক নিয়মের সমস্যা হল, তারা জোরপূর্বক মানুষের কাছ থেকে কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ বা আধা জমা নেয় বা নেয়ার নিয়ম বেঁধে দেয়। অথচ সাদাকা ও দান আল্লাহর উদ্দেশ্যে খাঁটি মনে স্বইচ্ছায় না দিলে কবূল হয় না। অনুরূপ কারো কাছ থেকে কোনো কিছু জোরপূর্বক নেওয়া এবং তা দান করাও নিষেধ। তাই এই নিয়মে সাদাকাকারীর ইখলাস ও আন্তরিকতা থাকে না ‌বরং থাকে সামাজিকতার অবৈধ চাপ।
এই জরূরী ভিত্তিক সামাজিক নিয়মের আর একটি সমস্যা হল, সমাজ যখন কুরবানীর গোশত জমা করে বিতরণ করে, তখন বিভিন্ন গ্রামের ফকীর-মিসক্বীন উপস্থিত হয় এবং তাদের ভাগ্যে আসে দুই-চার শত গ্রাম গোশত। তাই তাকে সেই দিনে আবারো ভিক্ষা করার ন্যায় ঘুরতে হয় ৫-১০ গ্রাম। অথচ প্রত্যেক গ্রামে কুরবানীদাতা স্বয়ং যদি তার আসেপাসে বসবাসকারী পরিচিতদের দুই-চার জনকে গোশত বিতরণ করে এই ভাবে অন্যরাও বিতরণ করে তাহলে গ্রামের সকল প্রয়োজনীয়দের বাসায় গোশত পৌঁছে যাবে। তাদের আর সেই দিন লজ্জা, কষ্ট, তিরষ্কার মাথায় নিয়ে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আরো একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা আছে যা আমরা অনেকে অনুভব করি না। তা হল, অনেকে তার স্বল্প সাধ্যানুযায়ী একটি ছাগল বা একটি গরুর ভাগ কুরবানী দেয়। খুব বেশী তো তারা ৮-১০ কে.জি. গোশত পায়। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ বা আধা যদি সমাজিক নিয়মের কারণে তাদের দিতে হয়, তাহলে তার কাছে অবশিষ্ট থাকে ৫-৬ কে.জি.। এখন বাড়িতে-৭-৮ জন সদস্য সংখ্যা হলে অনুমান করুন তো তারা দুইবেলা মন পুরে গোশত খেতে পারবে কি? তারা নিজ আত্মীয় স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের দিতে পারবে কি? তাই এমন বহুলোক ভারাক্রান্ত মনে সমাজে নির্ধারিত অংশ জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে। অথচ এই দিনগুলি খান-পানের দিন। নবী (সাঃ) বলেনঃ “তাশরীকের দিনগুলি খান-পান ও আল্লাহর যিকরের দিন”। [মুসলিম, নং ১১৪১] তাই তারা প্রথমে আনন্দ করে খাবে এটা ঈদুল আযহার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। অতঃপর অন্যকেও দিবে। এমন লোক কুরবানী দাতা হলেও তাদের কুরবানীর গোশত হাদিয়া স্বরূপ দেওয়া উচিৎ
শ্রদ্ধেয় শায়খ Abdur Raquib

Advertisements

About sogoodislam

The concept of Islam is only-La ila ha illal la hu Muhamadur Rasulullah.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: